
সিলেট টেস্টের ভাগ্য এখন দাঁড়িয়ে শেষ দিনের রোমাঞ্চে। একসময় ম্যাচটা পাকিস্তানের দিকেই হেলে পড়ছে বলে মনে হচ্ছিল। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার দৃঢ় জুটিতে বাংলাদেশের জয় যেন ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছিল। তবে দিনের শেষ বিকেলে হঠাৎ করেই ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরান তাইজুল ইসলাম। তার জোড়া আঘাতে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ফেরে বাংলাদেশ।
চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। জয়ের জন্য তাদের এখনও প্রয়োজন ১২১ রান। আর বাংলাদেশের দরকার মাত্র ৩ উইকেট। ফলে শেষ দিনের লড়াই জমে উঠেছে পুরোপুরি।
দিনের শুরুতে অবশ্য আত্মবিশ্বাসীভাবেই এগোচ্ছিল পাকিস্তান। ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে ফেরান নাহিদ রানা এবং এরপর আজান আওয়াইসকে আউট করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে এরপরই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ। তৃতীয় উইকেটে তাদের ৯২ রানের জুটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে শুরু করে।
বাংলাদেশকে স্বস্তি ফেরান তাইজুল। লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটকিপার লিটন দাস-এর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাবর। ৪৭ রান করে ফিরে যান তিনি। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সৌদ শাকিলও। নাহিদ রানার বলে লিটনের গ্লাভসে ধরা পড়েন এই ব্যাটার।
তবু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে আসেনি। কারণ ষষ্ঠ উইকেটে রিজওয়ান ও সালমান আগা গড়ে তোলেন ১৩৪ রানের বড় জুটি। একপর্যায়ে পাকিস্তান রেকর্ড রান তাড়ার স্বপ্নও দেখতে শুরু করে। কিন্তু নতুন বল হাতে নিয়েই আবার আঘাত করেন তাইজুল। দারুণ এক ডেলিভারিতে ৭১ রান করা সালমানকে বোল্ড করেন তিনি। পরের ধাক্কাটা আসে আরও দ্রুত। কোনো রান করার আগেই ফিরে যান হাসান আলী।
দিন শেষে রিজওয়ান ৭৫ ও সাজিদ খান ৮ রানে অপরাজিত আছেন। পাকিস্তানের আশা এখন এই জুটিকে ঘিরে। অন্যদিকে বাংলাদেশের চোখ শেষ তিন উইকেটে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: চতুর্থ দিন শেষে - বাংলাদেশ ২৭৮ ও ৩৯০। পাকিস্তান ২৩২ ও ৩১৬/৭। তাইজুল ৪ উইকেট, নাহিদ ২ উইকেট, মিরাজ ১ উইকেট।