
সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকেই দিয়েছে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি, লিটন দাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস এবং ব্যাটারদের সম্মিলিত দৃঢ়তায় পাহাড়সম লক্ষ্য পেয়েছে সফরকারীরা। জিততে হলে পাকিস্তানকে করতে হবে ৪৩৭ রান, যা টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়ার নতুন বিশ্ব রেকর্ড হয়ে যাবে।
সোমবার (১৮ মে) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ বিনা উইকেটে শূন্য রান। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ফলে এখনও হাতে আছে দুই দিন, কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে বিশাল লক্ষ্য।
টেস্ট ক্রিকেটের প্রায় দেড় শ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড ৪১৮। ২০০৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তান যদি সিলেটে জিতে যায়, তাহলে সেটি হবে টেস্ট ইতিহাসের নতুন বিশ্ব রেকর্ড। নিজেদের ইতিহাসেও পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ৩৭৭।
দিনের শুরুতে ১৫৬ রানের লিড নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। দ্রুত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ফিরলেও এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেন মুশফিক ও লিটন। পঞ্চম উইকেটে তাদের জুটিতে আসে ১২৩ রান।
প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা লিটন দ্বিতীয় ইনিংসেও দারুণ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন। ৬৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করা এই উইকেটকিপার-ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৯২ বলে ৬৯ রান করে আউট হন। ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার।
এই ফিফটির মাধ্যমে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার টেস্টে পঞ্চাশ ছোঁয়ার দেখা পেলেন লিটন। তবে সেট হওয়ার পর ইনিংসটিকে আরও বড় করতে না পারার আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তার শতকের খুব প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। বিশেষ করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিফটি থেকে শতকে রূপান্তর করতে না পারা। শুরু ভালো হলেও সেটিকে দীর্ঘ ইনিংসে রূপ দিতে না পারায় অনেক সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়। লিটনের ইনিংসও সেই আক্ষেপ বাড়িয়েছে।
তবে একই সঙ্গে অনন্য এক কীর্তিও গড়েছেন তিনি। বাংলাদেশের উইকেটকিপারদের মধ্যে এক টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফিফটির ঘটনা এখন পর্যন্ত তিনবার ঘটেছে, আর তিনটিই লিটনের। এর আগে ২০২১ সালে পাকিস্তান এবং ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও একই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।
অন্যপ্রান্তে আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন মুশফিক। মোহাম্মদ আব্বাসকে চার মেরে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক এখন এককভাবে মুশফিক। এতদিন ১৩টি সেঞ্চুরি নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি ও মুমিনুল হক।
শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই অর্জন এখন মুশফিকের দখলে। শেষ পর্যন্ত ২৩৩ বল মোকাবিলা করে ১২ চার ও এক ছক্কায় ১৩৭ রান করেন তিনি।
মিরাজ ১৯ ও মাহমুদুল হাসান জয় ৫২ রান যোগ করলে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিড মিলিয়ে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭।
এর আগে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ২৩২ রানে। বাংলাদেশের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম। দুটি করে উইকেট পান তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে বাংলাদেশ। এখন স্বাগতিকদের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ পাকিস্তানের ১০ উইকেট তুলে নেওয়া। আর পাকিস্তানের সামনে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি।