
ক্যাম্পাস রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ (রাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে অবস্থান ও তাদের শিক্ষাবর্ষ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
রোববার (২৬ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাদের শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে নিজের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতির তুলনা টানেন আম্মার।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সেই প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আপনার সংগঠনের সভাপতি যখন ২০০৬-০৭ সেশনের, তখন আমি মক্তবে হাফ প্যান্ট পরে আলিফ-বা-তা শিখতেছি।’
একইভাবে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের শিক্ষাবর্ষ ২০০৭-০৮ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় তিনি স্কুল জীবনে টিফিনে বিস্কুট পাওয়ার চিন্তাতেই ব্যস্ত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের শিক্ষাবর্ষ নিয়েও মন্তব্য করেন রাকসু জিএস। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ সেশনের সভাপতি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন, তখন তিনি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। আর ২০১১-১২ সেশনের সাধারণ সম্পাদকের সময়ে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।
নিজের শিক্ষাজীবনের অগ্রগতি তুলে ধরে আম্মার বলেন, এরপর তিনি ধাপে ধাপে অষ্টম ও দশম শ্রেণি পেরিয়ে আলিম পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তার শিক্ষাজীবন শেষ পর্যায়ে। এই পুরো পথচলাকে তিনি নিজের জীবনের ‘ফুল ভার্সন আপডেট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ছাত্রদল নেতাদের দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে তারুণ্য, তারুণ্য থেকে প্রায় ক্যারিয়ারের দরজায়। পুরা লাইফের একটা ফুল ভার্সন আপডেট দিয়ে ফেললাম। আর ওনারা? স্টিল রানিং অন দ্য সেম ওল্ড বেটা ভার্সন ইন ক্যাম্পাস!’
আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে নিজের ক্যাম্পাস জীবন শেষ হবে বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ইনশাআল্লাহ এক-দেড় বছরের মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়বো আর ওনারা তখনো নতুন ব্যাচকে বলবেন, “আমরা তোদের সিনিয়র… আমাদের সময়…”।’
শেষে ছাত্রদল নেতাদের দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত করে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, ‘ভাই! আপনারা সিনিয়র না, আপনারা তো ক্যাম্পাসের “ঐতিহ্য” হয়ে গেছেন! মিউজিয়ামে রাখলে টিকিট কেটে মানুষ দেখতে আসতো!’