
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, বিগত অন্ধকার যুগে একটি দানবীয় শক্তি পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। তারা শিক্ষার্থীদের ভুল ইতিহাস শিখিয়ে এবং মেধা ধ্বংসের চক্রান্ত করে জাতিকে পিছিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে মাত্র দুই মাসে দেশের মানুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
শনিবার(২৫ এপ্রিল) মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় অবস্থিত কাজী শালীমা হক মহিলা ডিগ্রী কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তাকে কলেজ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, একটি সময় গেছে যখন পরীক্ষা না দিয়েই ৯৮ শতাংশ পাস করানোর মতো ভয়ংকর ধ্বংসাত্মক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেই ধারা বদলে শিক্ষার প্রকৃত মান ফিরিয়ে আনতে কাজ করছি। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে বেতন-ভাতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে, তবে শিক্ষকদেরও নিয়মিত প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে যেতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি অধিক যত্নশীল হতে হবে।
দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই প্রতিটি উপজেলায় অন্তত দুটি করে খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে। এ বছর ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং আগামী কয়েক বছরে ৫০ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী জুলাই মাস থেকে ফ্যামিলি কার্ড পুরোদমে চালু হবে। কৃষক কার্ডের পাশাপাশি মোল্লা-পুরোহিতদের বেতন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য কার্ড এবং সংস্কৃতি কর্মীদের জন্যও বিশেষ কার্ড প্রবর্তনের বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী আশ্বাস প্রদান করে বলেন, "মহম্মদপুরের আমিনুর রহমান কলেজের পাশাপাশি কাজী শালীমা হক মহিলা ডিগ্রী কলেজও সরকারিকরণের বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জনগণের স্বার্থই আমার প্রধান অগ্রাধিকার।"
কাজী শালীমা হক মহিলা ডিগ্রী কলেজের সভাপতি নেওয়াজ হালিমা আরলী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহম্মেদ, মাগুরা জেলা জাতীয়তাবাদী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট রোকনুজ্জামান খাঁন ও এডভোকেট মিথুন রায় চৌধুরী এবং মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ শাহনুর জামান।
অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।