
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে ফ্রান্সে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার। নতুন করে সহিংসতা ও লুটপাটের আশঙ্কায় প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় আংশিক কারফিউ সোমবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে মার্সেই ও লিওঁ শহরে এ সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ মোতায়েন ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে প্যারিসের লুভ্র, ওরসে ও পিকাসো জাদুঘর শনিবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় বিক্ষোভ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি, সেখানে শনিবার কেবল অনুমোদিত শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন তাদের জন্য বিকল্প স্থান বা পথ নির্ধারণ করে দেবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-দিদিয়ে বের্জে বলেন, গত সপ্তাহান্তের তুলনায় এবার পুলিশ মোতায়েন ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে। গত সপ্তাহে বিক্ষোভের মাত্রা সম্পর্কে সরকার আগাম যথেষ্ট ধারণা পায়নি—এমন সমালোচনার মধ্যেই নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহান্তে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের সময় দাঙ্গা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৃহস্পতিবার বিচারমন্ত্রী জানান, সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার শেষে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ২১৭ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে এসব ঘটনায় ২ হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। সংবাদপত্র লা ফিগারো-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের প্রায় অর্ধেকের আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।
মার্সেইতে শনিবার গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে শহরটিতে ব্যাপক সহিংসতায় ৫০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শনিবার রাত ১১টা থেকে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আগে জারি করা কারফিউ পুরো জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর করার ঘোষণাও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া নিস, টুলন, রুয়েন ও গ্রেনোবলসহ আরও কয়েকটি শহরে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিক ও লেস হ্যালস শপিং এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ। তিনি উগ্র-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে প্রজাতন্ত্রকে উৎখাতের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলে বলেন, সরকার দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চায়।
জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শ্রমিক সংগঠন, ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারী ও ছাত্রসংগঠনগুলোর সমর্থনে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে মিছিল হয়। বিক্ষোভের সময় লিওঁর পর্যটন দপ্তরে আগুন দেওয়া হয়। লিমোজ শহরের সিটি হলের ঘড়ির টাওয়ার ও ছাদের কিছু অংশ পুড়ে ধসে পড়ে।