
অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতার ধারাবাহিকতায় হেবরন শহরে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, নিহত দুই ফিলিস্তিনি হেবরন শহরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন। এতে পাঁচজন আহত হন। পরে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় ওই দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন।
ইসরাইলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম জানিয়েছে, আহত পাঁচজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ফিলিস্তিনি দুই ব্যক্তির ওপর ইসরাইলি সেনাদের গুলি চালানোর দৃশ্য দেখা গেছে। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
ঘটনার পর হেবরনের আশপাশের ফিলিস্তিনি গ্রামগুলো ঘিরে রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাবাহিনীর হামলা বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম শুরু হওয়ার পর এসব হামলা আরও তীব্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জলপাই সংগ্রহ পশ্চিম তীরের বহু ফিলিস্তিনি পরিবারের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এ সময় কৃষিজমিতে প্রবেশ, ফসল সংগ্রহ এবং বসতিকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করেন। সেখানে ১৯৪টি বসতি এবং প্রায় ৪০০টি ছোট আকারের বসতি স্থাপন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে।
হেবরনের এ ঘটনা পশ্চিম তীরে চলমান সংঘাত ও ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে কৃষিজমি ও বসতিকে ঘিরে সহিংসতা বাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।