
অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। পাশাপাশি অন্তত শুল্কের হার যাতে আর বাড়ানো না হয়, সেই আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আলবানিজ জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে তার আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছি, তিনি যেন পুরোপুরি শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করেন। অন্তত শুল্ক যেন আর না বাড়ানো হয়।’
জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। একই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আরও ৫৯টি দেশের পণ্যের ওপরও শুল্ক আরোপ করা হয়।
আলবানিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা ছিল ‘উষ্ণ ও ফলপ্রসূ’। অস্ট্রেলিয়াকে শুল্কের আওতামুক্ত করার অনুরোধটি বিবেচনার বিষয়েও ট্রাম্প সম্মতি জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অনুরোধ করেছি, যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থানটি বিবেচনা করা হোক। প্রেসিডেন্ট আমার অনুরোধটি বিবেচনা করবেন বলে সম্মত হয়েছেন।’
শুল্ক আরোপের বিষয়ে ওয়াশিংটন ও ক্যানবেরার দৃষ্টিভঙ্গি এক নয় বলেও উল্লেখ করেন আলবানিজ। তার মতে, অস্ট্রেলিয়া সরকার শুল্ককে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি উপায় হিসেবে বিবেচনা করে।
তিনি বলেন, ‘যে দেশ শুল্ক আরোপ করে, তার জন্যও এটি একটি ব্যয়। আমরা অবাধ ও ন্যায্য বাণিজ্যের পক্ষে।’
ট্রাম্প ও আলবানিজের বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি অকাসের অগ্রগতিও আলোচনায় আসে।
অকাস চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ট্রেলিয়ার অন্তত তিনটি ভার্জিনিয়া-শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন পাওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গও তোলেন আলবানিজ। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়—অস্ট্রেলিয়ার এই অবস্থানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলবানিজ বলেন, ‘আমরা সেখানে সংঘাতের অবসান দেখতে চাই—এ কথাও জানিয়েছি।’