
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই দায়িত্ব পালনরত আট হাইওয়ে পুলিশ সদস্যকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। নিষিদ্ধ সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সদস্যরা তাদের অপহরণ করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে আজাদ কাশ্মীর পুলিশের মুখপাত্র খাওয়ার আলী শওকত এ তথ্য জানান।
পুলিশের ভাষ্য, নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোর পাশাপাশি আট হাইওয়ে পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করে জেএএসি। অপহৃতদের নির্যাতন করা হয়েছে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র খাওয়ার আলী শওকত বলেন, সহিংসতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষতি করা কিংবা তাদের পরিবারের ওপর হুমকি অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং নিষিদ্ধ সংগঠনটির প্রভাব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
খাওয়ার আলী শওকতের দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট যে জেএএসি কোনো শান্তিপূর্ণ সংগঠন নয়। সহিংসতার মাধ্যমে সংগঠনটি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র কখনো দুর্বল ছিল না এবং এখনো নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্র সবসময় সংযমের পরিচয় দিয়েছে। তবে অধিকার আদায়ের নামে সহিংস কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
স্থানীয় জনগণকে জেএএসি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, অঞ্চলের মানুষ নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রমাণ করেছেন যে নিষিদ্ধ সংগঠনটির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে, ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসন নিয়ে বিরোধের জেরে গত কয়েক দিন ধরে পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যেই নির্বাচন চলাকালে আট পুলিশ সদস্য অপহরণের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করেছে।