
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেন আবারও ভয়াবহ মাত্রার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটিতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদকে গ্রুন্ডবার্গ জানান, ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনে সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি মারিব, হাদরামাউত, মোখা ও অন্যান্য এলাকায় হুতিদের হামলায় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনও হতাহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এডেনভিত্তিক ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, তাইজে হুতিদের একটি হামলা তারা প্রতিহত করেছে। বুধবার সরকার আরও দাবি করে, কয়েকটি গভর্নরেটে হুতি অবস্থান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধানও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হুতিরা কোনো পদক্ষেপ নিলে তার ‘ব্যাপক জবাব বা প্রতিরোধ’ দেওয়া হবে।
তবে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আগেই সংলাপ ও যুদ্ধবিরতির পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন গ্রুন্ডবার্গ। ইয়েমেনের সব পক্ষকে সংঘাত বন্ধের পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও আন্তঃসীমান্ত আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে। এ জন্য যেসব দেশের প্রভাব খাটানোর সক্ষমতা রয়েছে, তাদের মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের নতুন করে হামলা ইয়েমেনকে আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন গ্রুন্ডবার্গ।
ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ‘অর্থনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন’-এর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রায় এক দশকের গৃহযুদ্ধে দেশটির অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের বন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা, তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করা এবং হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন সানা বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিতে সংঘাতরত পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গ্রুন্ডবার্গ বলেন, এসব ক্ষেত্রে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় পক্ষেরই বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। এর এক বছর পর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দেশটিতে হস্তক্ষেপ করলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে হুতি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এখন পর্যন্ত সেটি মূলত কার্যকর রয়েছে।
গ্রুন্ডবার্গ জানান, ২০২৩ সালে বৃহত্তর অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইয়েমেনের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্থায়ী সমঝোতার দিকে যে অগ্রগতি হচ্ছিল, তা থেমে যায়।