
মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মোতায়েন করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে অবস্থান করা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের পরিবর্তে নতুন এই রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মূলত প্রশান্ত মহাসাগরভিত্তিক একটি বিমানবাহী রণতরী। প্রশান্ত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা টহলের অংশ হিসেবে এতদিন এটি মোতায়েন ছিল।
মার্কিন নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ভিয়েতনামের দা নাং বন্দর ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। বর্তমানে এটি প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী মালাক্কা প্রণালিতে অবস্থান করছে। সেখান থেকে ভারত মহাসাগর পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছাবে রণতরীটি।
ওই কর্মকর্তা জানান, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ক্রুজার ও একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনীর অধিকাংশ বিমান অভিযান ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন থেকে পরিচালিত হয়েছে। গত ২১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগো বন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করে রণতরীটি। ২৬ জানুয়ারি এটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছায়। এর এক মাস পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী।
প্রায় নয় মাস ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছেন ইউএসএস লিঙ্কনের নৌসেনারা। দীর্ঘ সময় সাগরে থাকা, যুদ্ধের চাপ, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং ছুটি না পাওয়ার কারণে নৌসেনাদের মধ্যে ব্যাপক মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রণতরীটিতে কিছু কারিগরি সমস্যাও দেখা দিয়েছে। কমে আসছে জাহাজটির রসদও।
এর আগে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী একই এলাকায় এত দীর্ঘ সময় একটানা অবস্থান করেনি বলে জানা গেছে। মানসিক চাপের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন মার্কিন নৌসেনা সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতা ঘটনাগুলোর তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ইউএসএস লিঙ্কনে থাকা নৌসেনাদের পরিবারের সদস্যরাও তাদের স্বজনদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ক্রমেই সোচ্চার হচ্ছেন।
নৌবাহিনীর ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন রণতরীটি সেখানে গিয়ে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দায়িত্ব প্রতিস্থাপন (রিপ্লেসমেন্ট) করবে।