
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে রেকর্ড মাত্রার শক্তিশালী এল নিনো নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে এল নিনো অভূতপূর্ব তীব্রতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এল নিনোর প্রভাবে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এল নিনো এখন আর আমাদের দোরগোড়ায় নয়, এটি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এখন আমরা যা দেখছি তা কেবল শুরু মাত্র (ওয়ার্ম-আপ অ্যাক্ট)’।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী কয়েক মাসে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ধরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে।
ডব্লিউএমওর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনাটি তাপপ্রবাহ, খরা এবং বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, এমন এক সময়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, যখন আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার চলমান বর্ষা মৌসুমেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে।
এল নিনোর প্রভাব মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গুতেরেস। তিনি জলবায়ু মোকাবিলায় দেশগুলোকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও সম্প্রসারণকে সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বের অধিকাংশ স্থলভাগেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, ‘এল নিনোর ওপর নিবিড় নজর রাখা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলোকে আগাম সতর্কবার্তাগুলো বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পূর্বাভাস নিজে থেকে বিপদ প্রতিরোধ করে না; মানুষকেই সেটা করতে হয়। আজ আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নেব, তা-ই আগামীকালের প্রভাব নির্ধারণ করবে।’
বিজ্ঞানীদের মতে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে এবং এর শক্তি রেকর্ড মাত্রায় যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তারা উল্লেখ করেছেন, এ বিষয়ে ব্যবহৃত কম্পিউটার মডেলের পূর্বাভাসে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।