
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে চলতি সপ্তাহান্তেই বড় ধরনের বিমান হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যদিও এ অভিযানে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তবে আন্তর্জাতিক অর্থবাজার সোমবার (৩ আগস্ট) খোলার আগেই সম্ভাব্য অভিযান শেষ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুব তীব্র আঘাত হানব এবং একপর্যায়ে তারা বলবে যে আমরা আর এটি সহ্য করতে পারছি না।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে জয়ী হবে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে পেন্টাগনের মুখপাত্র শিন পারনেল বলেন, মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আগে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে মন্তব্য করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাম্প ডেভিড থেকেই সম্ভাব্য নতুন হামলার অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে কূটনৈতিক সমাধানের কোনো বাস্তব সুযোগ তৈরি হলে ট্রাম্প অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে সিবিএস নিউজকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন।
এদিকে সম্ভাব্য হামলার খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরানও। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার জবাব দিতে ইরান একটি বিস্তারিত পাল্টা পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে দেশটি ইসরায়েল এবং অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।