
লেবানন সীমান্ত ঘিরে উত্তেজনা পুরোপুরি না কাটতেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি পুনরায় বলেছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। খবর দ্য ডনের।
রোববার (২১ জুন) এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ লেবাননে গড়ে তোলা নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী অবস্থান করবে।
তিনি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের প্রিয় বাসিন্দা এবং ইসরাইলের সব নাগরিকের নিরাপত্তার জন্য আমরা দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে যতদিন প্রয়োজন ততদিন থাকব। এই প্রতিশ্রুতি থেকে আমাদের কিছুই সরাতে পারবে না।’
এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, লেবাননে নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় ইসরাইলি বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের বিধিনিষেধ নেই। তার ভাষ্য, নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে সেনারা এখনও মোতায়েন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।
এর আগে শুক্রবার ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এর একদিন পর, শনিবার, ইসরাইলি হামলায় লেবাননে অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
যুদ্ধবিরতি মানতে প্রস্তুত হিজবুল্লাহ
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহর একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরাইল যদি যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলে, তাহলে তারাও সেই চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর অবাধ চলাচলের কোনো অধিকার নেই।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হয়নি।
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ইসরাইলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে হিজবুল্লাহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং বর্তমানে সংগঠনটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ গুরুতর ও বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে। তাদের পুনর্গঠন ঠেকাতে এবং প্রয়োজন হলে আবারও অভিযান চালানোর জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।‘