
ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। প্রথমবারের মতো দায়িত্বে থাকা কোনো ব্রিটিশ সম্রাট স্বেচ্ছায় নিজের ব্যক্তিগত কর-সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে যাচ্ছেন, যা রাজপরিবারের আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (২১ জুন) বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজপরিবারের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় রাজা চার্লসের কর পরিশোধ সম্পর্কিত তথ্যও প্রকাশ করা হবে।
প্রচলিত ব্রিটিশ আইনে, মা রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের ওপর রাজা চার্লসকে আয়কর, মূলধন লাভ কর কিংবা উত্তরাধিকার কর দিতে হয় না। তবে ব্যক্তিগত আয় এবং ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত আয়ের ওপর তিনি স্বেচ্ছায় কর পরিশোধ করে আসছেন।
বাকিংহাম প্যালেসের মুখপাত্র আরও জানান, ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজা চার্লস নিয়মিত নিজের কর-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতেন। সম্রাট হওয়ার পরও তিনি সেই স্বচ্ছতার নীতি বজায় রাখতে আগ্রহী।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সরকারের কাছ থেকে ১৩ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার) পেয়েছেন। এর পাশাপাশি জমি, ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ খাত থেকেও তার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত আয় রয়েছে।
রাজা চার্লসের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাজ্যে রাজপরিবারের ব্যয়, সুযোগ-সুবিধা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারের বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। গত বছর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি রাজপরিবারের ব্যবহৃত সরকারি বাড়ি ও আবাসিক সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত করের তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ রাজপরিবারের প্রতি জনআস্থা বাড়াতে এবং তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি