
লেবাননের চলমান সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে আরাগচি লেখেন, ‘পাকিস্তান ও কাতারের নিরলস মধ্যস্থতার ফলে লেবানন যুদ্ধ শেষ করার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অগ্রগতির অংশ হিসেবে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ থাকা সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করা এবং ইরানের জন্য বৃহৎ পরিসরের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এসব পদক্ষেপের কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রথম বড় পরীক্ষার ক্ষেত্র হবে ‘লেবানন ডি-কনফ্লিকশন সেল’।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন সরকারের মধ্যে চলমান সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করেছে লেবাননের প্রভাবশালী সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের আলোচনা দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং পরোক্ষভাবে ইসরাইলের স্বার্থকে এগিয়ে দেবে।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ অভিযোগ করে, ওয়াশিংটনে অবস্থানরত লেবাননের প্রতিনিধিদলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রণীত কিছু শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাদের মতে, এসব শর্ত বাস্তবায়িত হলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ‘বাজেয়াপ্ত’ হবে এবং দেশটিকে এমন এক অবস্থানে ঠেলে দেবে, যা ইসরাইলের সঙ্গে সমঝোতাকারীদের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হিজবুল্লাহ আরও দাবি করে, আলোচনার ভিত্তিই ত্রুটিপূর্ণ। তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া লেবাননের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার পরিবর্তে দেশটিকে কার্যত ‘আত্মসমর্পণের’ দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সংগঠনটি বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করে, সরকারের এ ধরনের সম্পৃক্ততা শত্রুপক্ষের আগ্রাসী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এটি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সংগ্রাম এবং সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগকে খাটো করে দেখার শামিল বলেও মন্তব্য করেছে তারা।