
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে তেহরানের প্রতি নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে জার্মানি। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে তা আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইয়ের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল।
রোববার (৩ মে) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। তাই প্রণালিটি অবিলম্বে সচল করার আহ্বান জানায় বার্লিন। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াডেফুল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অবস্থানের সঙ্গে জার্মানির অবস্থানের মিল রয়েছে। তার ভাষায়, ইরানকে ‘পরমাণু’ অস্ত্রের পথ থেকে সরে আসতে হবে এবং সেটি কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় নেতাদের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতার সমালোচনা করেন।
তবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়ায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট কোনো ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ চোখে পড়ছে না।
তিনি আরও বলেন, ‘পুরো একটি মার্কিন জাতিকে ইরানি নেতৃত্বের মাধ্যমে অপমানিত করা হচ্ছে।’ একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মের্ৎস মনে করেন ইরান আলোচনায় অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছে এবং দেশটি ধারণার চেয়েও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে ইসলামাবাদ সফরকালে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে জরুরি।
অন্যদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর জার্মানি স্পষ্ট করে জানায়, তারা কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না এবং ইরানে শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করবে না। জোহান ওয়াডেফুল বলেন, ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দেশটির জনগণকেই নির্ধারণ করতে হবে।