
পশ্চিমা চাপের মুখে জ্বালানি সরবরাহে বিকল্প খুঁজতে ভেনেজুয়েলার দিকে আবারও নজর দিচ্ছে ভারতের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। এ লক্ষ্যে দেশটি ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন পাওয়ার জন্য আলোচনা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর বিষয়টি ভারত বিবেচনায় নেওয়ায় বিকল্প জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে রিলায়েন্স।
সূত্রগুলো জানায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলার তেল কেনার অনুমতি পেতে রিলায়েন্সের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পাঠানো ই-মেইলের জবাবে রিলায়েন্স তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে বিশ্বের বৃহত্তম রিফাইনিং কমপ্লেক্স পরিচালনার জন্য ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ লাইসেন্স পেয়েছিল রিলায়েন্স। ওই অনুমতির আওতায় ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ রিলায়েন্সকে চারটি তেলের চালান সরবরাহ করে, যার পরিমাণ ছিল দৈনিক গড়ে প্রায় ৬৩ হাজার ব্যারেল। তবে মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পিডিভিএসএর অধিকাংশ অংশীদারের লাইসেন্স স্থগিত করে এবং ভেনেজুয়েলার তেল ক্রেতাদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়।
রিলায়েন্সের সর্বশেষ ভেনেজুয়েলার তেলের চালান ভারতে পৌঁছায় ২০২৫ সালের মে মাসে। গত বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিধি অনুযায়ী যদি অ-মার্কিন ক্রেতাদের কাছে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তারা পুনরায় তেল কেনার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কোনো লাইসেন্স বা অনুরোধ নিয়ে তারা মন্তব্য করেন না। তবে ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেভরন, ভিটল, ট্রাফিগুরাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রণ পেতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার স্থলভাগের ট্যাংক ও জাহাজে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে।