
জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় ধানমন্ডি থানায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে সম্প্রতি জমা হয়েছে।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ধানমন্ডি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আবুল বাশার সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পিবিআই মামলায় সংশ্লিষ্ট ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ৪ আগস্ট ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সাহেদ আলী ধানমন্ডি-২৭ নম্বরে আহত হন। এ সময় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট ৯ জন আহত হয়েছিলেন। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে সাহেদের ভাই শরীফ নামের এক ব্যক্তি ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। তদন্তকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজাহান ভূঞাঁ মামলাটি দেখেন এবং তদন্ত প্রতিবেদনে তথ্যগত ভুল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা ও ১১৩ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় আহতদের তথ্য সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। তবে মামলায় যাদের আহত বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের নাম গেজেটে পাওয়া যায়নি। যদিও পরবর্তী সময়ে আহতদের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া যাবে।
এজাহারে সাহেদ আলী, রাশেদ, জুয়েল, মাহমুদ, নাহিদ, রাসেল, মিরাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা, আইশ আক্তার ও সাম্মি আক্তার আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এ ধরনের কোনো আহত ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার জন্য বাদী শরীফের ভাড়া বাসায় নোটিশ পাঠানো হয়। তবে বাড়িওয়ালা জানান, শরীফ নামে কেউ তাদের বাসায় নেই। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে জানা যায়, বাদীর পূর্ণ নাম শরিফুল ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুর সদরের ১৪ নম্বর মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়দের সঙ্গে খোঁজ নেওয়া হলেও কেউ তাকে চিনতে পারেননি এবং মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন কখনো খোলা, কখনো বন্ধ থাকায় তথ্য আদায় সম্ভব হয়নি।
কয়েক দিনের পর শেষ পর্যন্ত শরীফ ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। তদন্তকারী ভুক্তভোগীকে হাজির করার এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও তিনি হাজির হননি এবং কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেননি। এজাহারেও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মামলার সাক্ষীদেরও পাওয়া যায়নি।