
ইরান একদিকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রাখতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি ও দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তেহরানে অবস্থানরত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে আরাঘচি বলেন, “ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা আলোচনার জন্যও প্রস্তুত, তবে সেই আলোচনা হতে হবে ন্যায্য, সমতার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে।”
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানে চলমান বিক্ষোভ ‘সহিংস ও রক্তক্ষয়ী’ রূপ ধারণ করেছে। আরাঘচি দাবি করেন, এই অস্থিরতাকে বিদেশি হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সহিংসতার মাত্রা গত সপ্তাহান্তে বেড়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্পের সামরিক হুমকিকেই সহিংসতার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসীরা এই সুযোগ নিয়ে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী উভয়ের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যাতে বিদেশি হস্তক্ষেপের পথ সুগম হয়।”
আরাঘচি আরও জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে এমন ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, যেখানে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অস্ত্র বিতরণের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। যদিও তিনি তা প্রকাশ করেননি। তিনি উল্লেখ করেন, আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তির ভিডিও শিগিরই প্রকাশ করা হবে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে, অস্থিরতার সময় নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের স্মরণে সরকার তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এপর্যন্ত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।
তবে বেসামরিক নিহতদের বিষয়ে সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। বিদেশে অবস্থানরত বিরোধী কর্মীরা দাবি করছেন, নিহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং এতে শত শত মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলমান ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা, তাসনিম।