
বাংলার সমৃদ্ধ নাট্য ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্সের নবগঠিত শিল্প সংস্থা ‘থিয়েটার দ্য লা মেজঁ ফ্রঁসেজ’। ‘ফ্রেঞ্চ হাউস থিয়েটার ডিপ্লোমা–বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’ শিরোনামে একটি অনলাইন ডিপ্লোমা কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে তারা। ফ্রান্সের ব্রিটানি থেকে পরিচালিত এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা নাটকের চর্চা ও সম্প্রসারণ।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় চয়ন খায়রুল হাবিব
এই বিশেষ ডিপ্লোমা কোর্সের আবাসিক লেখক, নির্দেশক ও সমন্বয়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ফ্রান্স প্রবাসী বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার চয়ন খায়রুল হাবিব। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিলে আয়োজিত কমনওয়েলথ লিটারেচার সেমিনারে প্রথম আফ্রিকান নাটক অনুবাদ ও নির্দেশনার গৌরব অর্জন করেছিলেন তিনি। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চস্থ তার ‘জুলেখা ট্রিলজি’ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।
প্রশিক্ষণ ও তিন বিশেষ প্রযোজনা
তিন মাস মেয়াদী এই অনলাইন কোর্সে নাট্যলিখন, পাঠ, নির্দেশনা, অভিনয় এবং আলোক ও মঞ্চ পরিকল্পনার ওপর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে তিনটি পৃথক নাট্য প্রযোজনায় অংশ নেবেন:
১. পৌরাণিক নাটক: প্রথম প্রযোজনাটি হবে মহাকবি কালিদাসের ‘শকুন্তলা’র কাহিনি অবলম্বনে।
২. ঐতিহাসিক নাটক ‘জেড’: দ্বিতীয় নাটকটি হবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক। এতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং বিদ্রোহের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট চিত্রিত হবে।
৩. ইম্প্রোভাইজড নাটক: তৃতীয় প্রযোজনাটি হবে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়াকে নিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের সম্মিলিত একটি নিরীক্ষাধর্মী কাজ।
‘জেড’ নাটকের বিশেষত্ব ও আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা
নাটক ‘জেড’-এ একটি বিশেষ কাল্পনিক মেলবন্ধন দেখানো হবে। এতে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগীতশিল্পী আজম খান এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হানের সাথে জিয়াউর রহমানের কথোপকথন ফুটে উঠবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, মহড়ার আগে নাটকটি জাতীয় কপিরাইট অফিসে জমা দেওয়া হবে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে অবহিত করা হবে। নাটকটি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হবে এবং ভবিষ্যতে ফ্রান্সে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অংশীদার ও কারিগরি দল
এই উদ্যোগে স্থানীয় সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘নন্দন বিশ্বমেলা’ প্ল্যাটফর্ম। কর্মসূচির সমন্বয়ক ড. শাহনাজ পারভীন ‘জেড’ প্রজেক্টের লিয়াজোঁ হিসেবে কাজ করবেন এবং ডিজাইন কনসালট্যান্ট হিসেবে থাকছেন পরিসর আর্ট সেন্টারের জুনায়েদ ইউসুফ। ফরাসি অংশের সমন্বয় করছেন প্যাট্রিসিয়া গিদাস।
সময়সূচি ও মঞ্চায়ন
ডিপ্লোমা কোর্সটি আগামী আগস্টে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং নভেম্বরে শুরু হবে সরাসরি মহড়া। সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের ১৯ জানুয়ারি, জিয়াউর রহমানের জন্মদিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মাঠে ‘জেড’ নাটকের প্রাথমিক ওয়ার্কশপ প্রযোজনাটি মঞ্চস্থ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বনাট্যের অংশ হিসেবে এই কোর্সে নাইজেরিয়ার ওলে সোয়িঙ্কা, ফ্রান্সের ইয়াসমিন রেজা এবং শহীদ মুনীর চৌধুরীর সাহিত্যকর্মও স্থান পেয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ শিল্পীরা বিশ্বমানের নাট্যভাবনার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।