
জুলাই বিপ্লবের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত আর বর্তমানের প্রেক্ষাপট এক নয়—এমন দাবি তুলে সরব হয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম। ছাত্রীদের হলের তালা ভেঙে বের হওয়ার ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, প্রথাগত তালা ভাঙার সংস্কৃতি কাউকে প্রকৃত বিপ্লবী হিসেবে গড়ে তোলে না।
মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ছাত্রীদের এই কর্মকাণ্ড এবং নারীদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।
জুলাইয়ের আন্দোলন বনাম বর্তমান প্রেক্ষাপট
মানসুরা আলম তার পোস্টে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময়ের প্রেক্ষাপট ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেন, "জুলাই একবার ই এসেছিলো। মেয়েদের হলের তালা ভেঙে আসা বাঁধভাংগা জোয়ারকে সাপোর্ট দিয়েছিলো সারাদেশের মানুষ। কারন সেটি ছিলো দীর্ঘদিনের এক নিষ্পেশনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।"
তবে তার মতে, পরবর্তী সময়ে এই একই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানের এই আন্দোলনগুলোতে আগের সেই স্বতঃস্ফূর্ততা বা নৈতিক ভিত্তি নেই বলে তিনি মনে করেন।
‘ব্যবহার’ হওয়ার আশঙ্কায় ছাত্রীরা
ছাত্রীদের হলের তালা ভেঙে বাইরে আসাকে সস্তা জনপ্রিয়তার চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এই শিক্ষার্থীরা অন্যের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, "তালা ভেঙে বের হইলেই বিপ্লবি হওয়া যায়না, তা এই মেয়েদের কেউ বুঝান। দুইদিন পরেই উপলব্ধি করবে যে তাদের ব্যবহার করা হয়েছিলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেও করে সে উপলব্ধি এখন।"
নারী রাজনীতি ও প্রতিবন্ধকতা
নারীদের রাজনীতিতে পিছিয়ে থাকার পেছনে এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন মানসুরা আলম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী মনোনয়ন পান না কিংবা রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ সংকুচিত থাকে। তার মতে, যারা 'তালাভাঙা পার্টি' হিসেবে পরিচিত, তাদের মানসিকতা পর্যবেক্ষণ করলেই এর কারণ স্পষ্ট হয়ে যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এই ছাত্রীরা নিজেরা কী চায় তা না বুঝলেও অন্য কোনো নারীর ক্ষমতায়নে বাধা সৃষ্টিতে মরিয়া থাকে। বরাবরের মতো নারীবিরোধী নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী বা সংস্থা নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে সংকীর্ণ করতে এদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংসদ সদস্যের এই মন্তব্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্র রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট মহলে এর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।