
নেত্রকোনার মদনে শিক্ষক কর্তৃক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী শিশুর ভ্রূণের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। একই সাথে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে ময়মনসিংহে র্যাব-১৪-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কমান্ডিং অফিসার (সিও) নায়েমুল হাসান।
ডিএনএ টেস্ট নিয়ে বিভ্রান্তি ও র্যাবের বক্তব্য
গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল যে, ভুক্তভোগী শিশুটির ভ্রূণের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বিনোদন জগতের অনেক তারকাও নিজেদের ভেরিফায়েড প্রোফাইল থেকে এমন তথ্য প্রচার করেন। তবে বিষয়টি পরিষ্কার করে র্যাব-১৪-এর সিও নায়েমুল হাসান বলেন, "ডিএনএ টেস্ট হয়নি। প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অবশ্যই সেটা করবেন। তদন্তের স্বার্থে যা যা করা দরকার সেটা করবেন।"
প্রধান অভিযুক্ত গ্রেফতার
র্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনমপুর গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালানো হয়। বুধবার ভোর ৪টার দিকে ঘটনার মূল হোতা ও মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব সদস্যরা। তাকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার নেপথ্যে
মামলার বিবরণী ও সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, আমান উল্লাহ নেত্রকোনার মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি সেই মাদ্রাসারই শিক্ষার্থী ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর আমান উল্লাহ তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
দীর্ঘদিন পর বিষয়টি প্রকাশ পায় যখন গত ১৮ এপ্রিল নেত্রকোনার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সত্য উদ্ঘাটন করা হবে। তারা জনসাধারণকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অসমর্থিত তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।