
সরকারি ছুটি কিংবা উৎসবের সময় এটিএম বুথে নগদ টাকা না থাকা, যান্ত্রিক ত্রুটি ও বুথ বন্ধ থাকার কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে এক বুথ থেকে অন্য বুথে ঘুরতে হয় অনেককে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ে যাতায়াতের খরচও। দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বুথে টাকা না থাকা, কারিগরি ত্রুটি কিংবা বুথ বন্ধ থাকার অজুহাতে গ্রাহকদের সেবা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ছুটির দিনগুলোতেও এটিএম ও সিআরএম বুথ সচল রেখে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ বিষয়ে কথা বলেন।
আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন নগদবিহীন ব্যবস্থায় নিয়ে যেতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ছোট-বড় সব লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার উদ্যোগ চললেও এখনো নগদ অর্থের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
বিশেষ করে টানা ছুটির সময় ব্যাংকের শাখাগুলো বন্ধ থাকায় নগদ টাকা তোলার জন্য গ্রাহকদের এটিএম ও সিআরএম বুথের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ সময় বুথে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে কিংবা যান্ত্রিক সমস্যায় সেবা বন্ধ হয়ে গেলে গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, অতীতে দেখা গেছে, টাকা তুলতে গিয়ে গ্রাহকদের এক বুথ থেকে অন্য বুথে ছুটতে হয়েছে। কোথাও নগদ অর্থ পাওয়া যায়নি, কোথাও আবার যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা বুথ বন্ধ থাকার কারণে টাকা তোলা সম্ভব হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না বাংলাদেশ ব্যাংক।
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকসেবার মান বজায় রাখতে হবে। ছুটির মধ্যেও এটিএম ও সিআরএম বুথ চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।
বুথে টাকা না পেলে কমে ব্যাংকের প্রতি আস্থা
রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার গ্রাহক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জরুরি প্রয়োজনে টাকা তুলতে গিয়ে অনেক সময় একাধিক বুথে যেতে হয় তাঁকে। কোনো বুথে নগদ টাকা থাকে না, আবার কোথাও কারিগরি সমস্যার কারণে টাকা তোলা যায় না। ছুটির দিনে ব্যাংকের শাখাও বন্ধ থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়তে হয়।
তিনি মনে করেন, ব্যাংকগুলো আগে থেকেই বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখলে এবং যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করলে গ্রাহকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আরিফ হোসেন খান বলেন, এটিএম সেবা কেবল গ্রাহকের সন্তুষ্টি বাড়ানোর মাধ্যম নয়; ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে। কোনো গ্রাহক একটি ব্যাংকের বুথে গিয়ে টাকা তুলতে ব্যর্থ হলে ওই ব্যাংকের প্রতি তাঁর আস্থা কমে যেতে পারে। এর ফলে ব্যাংকের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকসেবার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে। কোনো সেবা চালুর পর গ্রাহকেরা সেটির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে তাঁদের সেই সেবা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। তাই ছুটির সময় এটিএম ও সিআরএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখা এবং সেবা সচল রাখার বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে।