
কিশোরগঞ্জে দুই অটোরিকশাচালককে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগে চৌদ্দশত ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। মানববন্ধন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকালে সদর উপজেলার পুলেরঘাট এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্থানীয়রা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. সিরাজ মিয়া, আল ইসলাম, রফিক মিয়া, সুরুজ মিয়া, মামুন, আছমা আক্তারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বক্তারা বলেন, বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলে বিএনপি নেতা আব্দুল কাদির ক্ষুব্ধ হয়ে দুই যুবককে মাদক বিক্রির অপবাদ দিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করেন।
বক্তারা আরও বলেন, দলীয় পরিচয় বা প্রভাবের কারণে কারও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এর আগে গত ১০ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা আব্দুল কাদির ও কাজল দুই যুবকের হাত-পা রশি দিয়ে একসঙ্গে বেঁধে পরে তাদের পায়ের পাতায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করছে। এ সময় দুই যুবক মারধর না করার জন্য আকুতি জানালেও নির্যাতন থামেনি বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
নির্যাতনের শিকার দুই যুবক হলেন চৌদ্দশত জালুয়াপাড়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে মাসুম (৩০) ও একই এলাকার সুরু মিয়ার ছেলে কালন (৩৫)। পরিবারের দাবি, গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. সিরাজ মিয়া বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবক মাদক সেবন বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত নন। তারা দিনমজুরের মতো পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা কোনো অপরাধ করে থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করার অধিকার কারও নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি দেখে তিনি হতবাক হয়েছেন। ওই দুই যুবক কোনো অপরাধ করে থাকলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা যেত। অথবা সরাসরি পুলিশে দেওয়া যেত। এভাবে নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত।
অটোরিকশাচালক মামুন মিয়া বলেন, ওই দুই যুবক তাদের সঙ্গে অটোরিকশা চালান। তাদের কখনো মাদক সেবন বা বিক্রি করতে দেখেননি। তার জানা মতে, বকেয়া ভাড়া চাইতে গিয়ে তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, মারধরের ঘটনা আড়াল করতেই দুই যুবকের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ তোলা হয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে থাকায় তাদের চিকিৎসা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আব্দুল কাদির। তিনি দাবি করেন, ওই দুই যুবক অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। স্থানীয়রা তাদের মাদকসহ আটক করেন। পরে তিনি তাদের দুই-চারটি বাড়ি দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, ঘটনার দিন স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই যুবককে আটটি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করে। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।