
রাজধানীর কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসান সরকার (৩২) সাত দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এখনো তার কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে। বাড়িতে অপেক্ষা করছেন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, আর স্বজনরা দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৭ এপ্রিল সকাল থেকে রাকিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
রোববার (৩ মে) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপটা গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিখোঁজ এসআইয়ের স্ত্রী সামিয়া (২১) চরম উদ্বেগে সময় কাটাচ্ছেন। পারিবারিকভাবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাদের বিয়ে হয় বলে জানান তিনি।
সামিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবুল হাসান কিশোরগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে ২৪ মার্চ ঢাকার কলাবাগান থানায় যোগ দেন। নতুন কর্মস্থলে ব্যস্ততার কারণে তিনি বাড়িতে আসার সুযোগ পাননি। সর্বশেষ ২৭ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তাদের মধ্যে কথা হয়। ওই সময় তিনি তার অসুস্থ বাবার জন্য দোয়া চান এবং স্ত্রীকে নিজের খেয়াল রাখতে বলেন।
এরপর একই দিন বিকালে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও কোনো জবাব পাননি সামিয়া। রাত ১০টার দিকে ফোন করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলাবাগান থানা থেকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানানো হয়, তিনি ডিউটিতে উপস্থিত হননি এবং কোথায় আছেন তা জানা যাচ্ছে না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাকিবুল হাসান চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার বড় বোন আফরোজা সরকার মেরি জানান, ২০২২ সালে এসআই হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন রাকিবুল। দীর্ঘ সময় পিবিআইতে দায়িত্ব পালনের পর তিনি সম্প্রতি কলাবাগান থানায় যোগ দেন।
তিনি আরও জানান, তাদের ষাটোর্ধ্ব পিতা দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাবার অসুস্থতার বিষয়টি তাকে এখনো পুরোপুরি জানানো হয়নি।
বড় বোন মেরি বলেন, তিনি নিজে কলাবাগান থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েছেন, তবে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি দাবি করেন, ভাই ও তার স্ত্রীর মধ্যে কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল না এবং তাদের সম্পর্ক ভালো ছিল। কিছু গণমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমার ভাইকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং নিখোঁজ এসআইয়ের সন্ধানে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।