
নেত্রকোনায় চলতি মৌসুমের সরকারি ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। রোববার (৩ মে) সন্ধ্যায় জেলা পাবলিক হল মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা যত পরিমাণ ধান দিতে সক্ষম হবেন, সরকার তত পরিমাণই সংগ্রহ করবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে কৃষি কার্ড চালু করা হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ন্যূনতম চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে আগামী জুলাই থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একক ইউনিফর্ম চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ধান-চাল সংগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার চেয়েও বেশি পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে।’ কৃষক যেন সরাসরি সুবিধা পান, সে জন্য কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেট থাকবে না বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করা হবে। তবে ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মাত্রার আর্দ্রতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক, কারণ অতিরিক্ত ভেজা ধান সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। এজন্য কৃষকদের শুকানো ধান নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নেত্রকোনায় ২০ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন ধান এবং ৫৫ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা এবং চালের দাম ৪৯ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। জেলার ১৩টি খাদ্যগুদামে এই সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।