
দেশে বিদ্যমান টিকার ঘাটতি মিটিয়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে ফের গতিশীল করতে বড় ধরনের সুসংবাদ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সরকারের বিশেষ উদ্যোগে দেশে এসে পৌঁছেছে ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা।
বুধবার (৬ মে) বেলা পৌনে ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকার এই গুরুত্বপূর্ণ চালানটি এসে পৌঁছায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে বিমানবন্দরে এই সরবরাহ গ্রহণ করেন।
যেসব টিকা এসেছে এই চালানে
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র হাম নয়, বরং একই সাথে হাম-রুবেলা এবং ওরাল পোলিওসহ মোট ১০টি ভিন্ন রোগের প্রতিষেধক নিয়ে এই চালানটি বাংলাদেশে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
বিসিজি ও পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা।
পিসিভি এবং টাইফয়েড প্রতিষেধক।
হাম, রুবেলা ও ওরাল পোলিও টিকা।
কেন তৈরি হয়েছিল এই সংকট?
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রকোপ আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান মজুত থেকে অতিরিক্ত টিকা জরুরি ক্যাম্পেইনে ব্যয় করতে হয়েছিল। ফলে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা সাময়িক ঘাটতি দেখা দেয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই নতুন সরবরাহ সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
টিকা গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "চলমান নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে সৃষ্ট সংকট কাটাতে এই চালান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্প্রতি দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে টিকা আনা হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত মজুদের কিছু টিকা জরুরি ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছিল।"
২৪ দিনে নজিরবিহীন সরবরাহ ও পরবর্তী পরিকল্পনা
বিদেশে অর্ডারের পর অত্যন্ত স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এই বিশাল সরবরাহ নিশ্চিত করাকে সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রী আরও যোগ করেন, "আগামী দিনে আর কোনো টিকার সংকট থাকবে না। মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এসব টিকা দেশে এনে সরকার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।"
জ্বালানি বা ওষুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে সরকার যে বদ্ধপরিকর, তার অংশ হিসেবে আগামী ১০ মে-র মধ্যে আরও বড় আকারের সরবরাহ দেশে আসবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই হামসহ মোট ১০টি ক্যাটাগরির প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে চলমান দুশ্চিন্তার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।