
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নৌপথের যাত্রী পরিবহনেও। বাসভাড়ার পর এবার লঞ্চভাড়াও বাড়িয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৫ মে) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কম দূরত্বে (১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত) লঞ্চভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৮ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে ২ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ১৪ পয়সা বাড়িয়ে ভাড়া ২ টাকা ৩৮ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫২ পয়সা করা হয়েছে।
শতকরা হিসেবে কম দূরত্বে ভাড়া বেড়েছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বেশি দূরত্বে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
এছাড়া, জনপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই ভাড়া মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট, পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯’-এর বিধি ২৭ অনুযায়ী সরকার নৌযানে যাত্রী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে।
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বৃদ্ধি পায়, যা ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরপরই গণপরিবহন খাতে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি ওঠে। এর প্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল সড়ক পরিবহন খাতে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ওই দিন থেকেই বাসভাড়ার নতুন হার কার্যকর হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খাতে ব্যয় বাড়ায় ভাড়া সমন্বয় অনিবার্য হয়ে উঠেছে। তবে এতে সাধারণ যাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে বলেও মনে করছেন তারা।