
মৎস্যজীবীদেরও কৃষক কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, মৎস্য খামারি ও জেলেরা কৃষকদের মতোই বিভিন্ন সুবিধা পাবেন এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ঋণ সুবিধাও দেওয়া হবে।
বুধবার (৬ মে) রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং মৎস্যজীবীদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন। কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড দিয়েছেন। আপনারাও কিন্তু কৃষক কার্ডের আওতায় পড়বেন। মৎস্য খামারি, মৎস্য শিকারি, সবাই সম্পৃক্ত হবেন।’
তিনি আরও জানান, কৃষক কার্ডের আওতায় ১০ ধরনের সুবিধা থাকবে এবং এর মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
কাপ্তাই হ্রদের মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, একসময় এই হ্রদে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যেত, এখন তা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই হ্রদে ছাড়া পোনা বড় হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে এবং জেলেদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. ইমাম উদ্দীন কবীরের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বিজিবির রাঙ্গামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, রাঙ্গামাটির ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. মোবারক হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠান শেষে কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয় এবং জেলে পরিবারের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির কাপ্তাই হ্রদনির্ভর ২৬ হাজার ৮৪৫টি জেলে পরিবারকে প্রথম ধাপে পরিবারপ্রতি ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। দুই মাসের জন্য মোট এক হাজার ৭৪ মেট্রিক টন চাল বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া চলতি মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে ৬০ মেট্রিক টনের বেশি মাছের পোনা অবমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন।