
দেশে মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে এপ্রিলে ৯.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মার্চ মাসে ছিল ৮.৭১ শতাংশ। মাসভিত্তিক এই বৃদ্ধিতে বাজারে নিত্যপণ্যের দামের চাপ আরও বেড়েছে, ফলে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে।
বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে বেড়ে ৮.৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মার্চে ছিল ৮.২৪ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে ৯.৫৭ শতাংশ হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৯.০৯ শতাংশ।
গত বছরের একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.১৭ শতাংশ। ফলে বার্ষিক হিসেবে সামান্য কমতি দেখা গেলেও মাসভিত্তিক প্রবণতা উল্টো দিকে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। ১৯ এপ্রিল সরকার ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম বাড়ানোর পর বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামে তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
এর ফলে শাকসবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা গেছে। মাছ ও মাংসের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, যদিও চালের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
বিবিএসের তথ্যে আরও দেখা যায়, গত এপ্রিলে জাতীয় গড় মজুরি হার ছিল ৮.১৬ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম। অর্থনীতিবিদদের মতে, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে থাকলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায় এবং জীবনযাত্রার চাপ বাড়ে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়া মানেই পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়, বরং আগের মাসের তুলনায় দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে যাওয়াকে বোঝায়।