
সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির প্রভাবে ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, আগামী ছয় মাসে আরও সমান সংখ্যক মানুষ চাকরি হারাতে পারেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে এলডিসি উত্তরণ ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আইসিসিবি আয়োজিত সেমিনারে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সেমিনারে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “নীতি সুদহার ও মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে হবে। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, “এনপিএ (নন-পারফরমিং অ্যাসেট) কখনই কম ছিল না; এটি শুধু কাগজে-কলমে কম দেখানো হতো। বাস্তবে এনপিএ অনেক বেশি ছিল। যদি সুদের হার কমাতে হয়, সঠিকভাবে এনপিএ কমাতে হবে।”
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। খেলাপি ঋণ কমানো না গেলে ব্যাংকগুলো সমস্যায় পড়বে। এজন্য ব্যাংকিং খাতে নিয়মনীতি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।”
এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি একে আজাদ মন্তব্য করেন, “মনিটারি পলিসি টাইটেন (মুদ্রানীতি কঠোর) করাতে ১২ লাখ লোক চাকরি হারিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার ধারণা, আগামী ছয় মাসে আরও ১২ লাখ লোক বেকার হতে পারে।”
সেমিনারে গভর্নর নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী করে এলডিসি উত্তরণের প্রভাব মোকাবেলার গুরুত্বেও জোর দেন। আলোচকরা মনে করেন, এলডিসি উত্তরণের পর বিদেশি ঋণ ও শুল্কমুক্ত সুবিধা সীমিত হওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক খাতের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি জরুরি।