
টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৪ মে পর্যন্ত সিলেট ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে হাওরাঞ্চলের আধাপাকা বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানিয়েছেন, পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে মৌলভীবাজারের কিছু নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই অঞ্চলে মাঝারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার পর্যন্ত সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে অতি ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার আগামী ৩ মে থেকে হাওরাঞ্চলে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরগুলোকে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সিলেট অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ধান উৎপাদিত হয়েছে, যার বড় অংশই হাওর এলাকায়।
সিলেটের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ মে থেকে ধান কেনা শুরু হবে। তবে প্রস্তুতি এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান জানান, জেলায় ৮৮ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। দ্রুত ধান সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, আর কয়েক দিন সময় পেলে তারা ফসল ঘরে তুলতে পারতেন। তবে আগাম বন্যার আশঙ্কায় অনেকেই উদ্বেগে রয়েছেন। প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।