
তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, হত্যার বিচারের দাবিতে রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট মোড়সহ আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন। ফলে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও ও পান্থপথ এলাকায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। অনেক যাত্রীকে যানবাহন থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক অবরোধে অফিসগামীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকশ শিক্ষার্থী স্লোগান দিতে দিতে সড়কে বসে পড়লে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সহপাঠী সাকিবুল হাসান রানার হত্যার ২৪ দিন পার হলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ দাবি করেন এবং বলেন, "বিচারের স্পষ্ট অগ্রগতি না জানা পর্যন্ত আমরা অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাব।" শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, সাকিব মাদকবিরোধী বক্তব্য রাখায় নিহত হয়েছেন।
নিহত সাকিবুল হাসান রানা (১৮) তেজগাঁও কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর রাতে কলেজের ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন। চার দিন পরে, ১০ ডিসেম্বর, মগবাজারের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যশৈনু জানান, শিক্ষার্থীরা সহপাঠীর হত্যার বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এর আগে একই দাবিতে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা একাধিকবার সড়ক অবরোধ করেছিলেন। আজও তারা ফের ফার্মগেট এলাকায় আন্দোলনে নামেন।