
নেদারল্যান্ডসের ‘উইথলোকালস’ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের মূলহোতা ও সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) ও হৃদয় হাসান (২১)।
বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত হৃদয় হাসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং তৌহিদ ভূঁইয়া তদন্তে প্রাপ্ত অভিযুক্ত। প্রতারক চক্রটি নেদারল্যান্ডসের উইথলোকালস প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হুবহু ক্লোন করে একটি ভুয়া প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিল। পরে চক্রের অন্যান্য সদস্যরা ওই ভুয়া ওয়েবসাইটের লিঙ্ক সাধারণ মানুষের কাছে পাঠাত এবং বিদেশি কোম্পানির কর্মী পরিচয় দিয়ে উচ্চ লভ্যাংশের প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে মানুষকে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করত।”
সিআইডি জানিয়েছে, প্রলোভনে পড়ে ভুক্তভোগীরা ভুয়া প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। অন্তত একজন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে জানা যায়, হৃদয় হাসান দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।
৭ জানুয়ারি সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি দল জামালপুরের স্টেশন রোড এলাকা থেকে প্রথমে তৌহিদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। একই দিন তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের মূলহোতা হৃদয় হাসানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
হৃদয় হাসানের কাছ থেকে জব্দকৃত স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে প্রায় ৩০টি ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণ করত। এছাড়া, তার ব্যবহৃত দুটি বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট অন্য ব্যক্তিদের নামে হলেও সেগুলো তার বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।
ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, হৃদয়ের স্মার্টফোনে থাকা ১৫টি কিউআর কোড ব্যবহার করে একাধিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করত। নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার দাবি করলেও, বাস্তবে সে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় জড়িত ছিল।
গ্রেপ্তার উভয় আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। বর্তমানে সিআইডি বাইন্যান্স অ্যাকাউন্টের লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ৩০টি ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ তথ্য, ভুক্তভোগীদের সংখ্যা এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে।