
রাজধানীর ব্যস্ত কারওয়ান বাজার এলাকায় গুলিতে নিহত বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার ময়নাতদন্ত শেষ হয়। ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের লেকচারার ডা. আয়েশা পারভিন ময়নাতদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তেজগাঁও বিভাগের উপপরিদর্শক হায়দার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “গতকাল রাতে আমরা ঢাকা মেডিকেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। আজ দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা হয়, আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতেই মুছাব্বিরের মৃত্যু হয়েছে। তার পেটের ডান পাশে প্রায় আধা ইঞ্চি আকারের একটি গুলির ছিদ্র পাওয়া গেছে।
নিহতের শ্যালক জাহিদ হোসেন খোকন জানান, “আমরা আমার বোনজামাইয়ের মরদেহ বুঝে পেয়েছি। এখন পার্টি অফিসের সামনে জানাজা হবে। সেখানে জানাজা শেষে নিজ এলাকা কারওয়ান বাজারে আবার জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।”
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুছাব্বির দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের বাবা ছিলেন।
এর আগে বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন। মুছাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
এ ঘটনায় আবু সুফিয়ান মাসুদ নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে আটটার দিকে ফার্মগেট অতিক্রম করে কারওয়ান বাজার স্টার কাবাবের সামনে মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা গুলি চালায়। এতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বির এবং কারওয়ান বাজার ভ্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।