
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল জলসীমায় বাড়তে থাকা নিরাপত্তা শঙ্কার জেরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং সৌদি আরবের সাথে সম্পৃক্ত বাণিজ্যিক জলযানগুলোকে ওই বিপজ্জনক রুট এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নৌ মিশন ‘অ্যাসপিডেস’।
শিপিং ও সামুদ্রিক চলাচল খাতের সুরক্ষায় প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক নিরাপত্তা নির্দেশিকায় ইইউ নৌবাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন, ইসরাইলি কিংবা সৌদি স্বার্থের সাথে জড়িত যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বর্তমানে মারাত্মক হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এডেন উপসাগরের আঞ্চলিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত জলপথ সম্পূর্ণ পরিহার করার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।
এই কঠোর সতর্কবার্তা জারির মূল নেপথ্যে রয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র হুথি আন্দোলনের সাম্প্রতিক এক হুঁশিয়ারি। গত রোববার হুথি পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের চলমান অর্থনৈতিক অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সংঘটিত কথিত হামলার জবাব দিতে তারা রিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর নৌ অবরোধ কার্যকর করতে শুরু করেছে।
হুথিদের এই নতুন ঘোষণার পর থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান ধমনীস্বরূপ লোহিত সাগর অঞ্চলজুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের মেঘ জমেছে। প্রতিদিন এই ব্যস্ত সামুদ্রিক রুট দিয়ে কোটি কোটি ডলারের খনিজ তেল, গ্যাস এবং বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়। ফলে এই জলপথে তৈরি হওয়া যেকোনো আকস্মিক নিরাপত্তা সংকট বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খলে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
এদিকে হুথিদের এমন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদ সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও সামুদ্রিক আইন যথাযথভাবে মেনে নিজেদের জাতীয় জলযান ও بحরীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা সর্বাত্মক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের এই নতুন হুমকি এবং ইইউর এই কড়াকড়ি লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির দীর্ঘস্থায়িত্ব আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোকে বাধ্য করবে বিকল্প সমুদ্রপথ বেছে নিতে, যা পরোক্ষভাবে বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পরিবহন ব্যয় উভয়কেই ব্যাপক চাপের মুখে ফেলবে।