
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের শিক্ষা অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক হামলায় দেশের ১ হাজার ২৮৮টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এতটাই বিধ্বস্ত হয়েছে যে সেগুলো নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।
ইরানের স্কুল সংস্কার, উন্নয়ন ও সরঞ্জাম সংস্থার প্রধান আলিরেজা খান মোহাম্মাদীর বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমেও একই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আলিরেজা খান মোহাম্মাদী বলেন, ‘মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ২৮৮টি স্কুলের মধ্যে ১৬টি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো পুনর্নির্মাণ, পুনর্বাসন ও কাঠামোগতভাবে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’
তিনি জানান, সামান্য ও মাঝারি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ স্কুলের সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ৪০টি স্কুলের মেরামতকাজ বাকি রয়েছে এবং আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সেগুলোর কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে ইরানের শিক্ষা খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরবর্তী মূল্যায়নে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের সংখ্যা ১ হাজার ২৮৮টি বলে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বেসামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আলোকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তথ্যসূত্র: ইরনা, তাসনিম নিউজ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল