
সৌদি আরবের সমুদ্রবন্দরগুলো ব্যবহারে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কঠোর হুঁশিয়ারির পর লোহিত সাগরে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকার নিজেদের নির্ধারিত গতিপথ হঠাৎ পরিবর্তন করেছে। বিশ্বজুড়ে শিপ ট্র্যাকিং সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে এই নাটকীয় রুট পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে।
শিপিং ডেটা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাণিজ্যিক ঝুঁকিমুক্ত থাকতে লোহিত সাগর অঞ্চল দিয়ে যাতায়াতকারী অন্তত চারটি বিশালাকার তেলবাহী ট্যাংকার তাঁদের পূর্বনির্ধারিত দিক পরিবর্তন করেছে।
দিক পরিবর্তনকারী এই চারটির মধ্যে দুটি ট্যাংকার নিজেদের নতুন গন্তব্যস্থল হিসেবে সুয়েজ খালের নাম তালিকাভুক্ত করেছে। অন্যদিকে বাকি দুটি ট্যাংকার লোহিত সাগরের উন্মুক্ত জলপথকেই আপাতত নিজেদের সাময়িক নোঙ্গরস্থল বা গন্তব্য হিসেবে শিপিং রেজিস্টারে নথিভুক্ত করে রেখেছে।
এছাড়াও মেরিন ডাটা বলছে, সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দরকে পরবর্তী গন্তব্য ঘোষণা দিয়ে রওনা হওয়া একটি বড় কার ক্যারিয়ার (গাড়ি বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজ) হঠাৎ করেই এডেন উপসাগরে নিজের স্বাভাবিক রুটে পরিবর্তন আনে।
এর ঠিক একদিন আগেই চীন ও ভারতে জ্বালানি তেল পরিবাহিত করার দায়িত্বে থাকা তিনটি আন্তর্জাতিক ট্যাংকার ইয়েমেন উপকূলের কাছাকাছি ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে সুয়েজ খালের দিকে রওনা দেয়।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের ওপর আনুষ্ঠানিক ‘সামুদ্রিক বা নৌ-অবরোধ’ আরোপের চวน্ত ঘোষণা দেয় ইয়েমেনের শক্তিশালী হুতি বিদ্রোহীরা।
হুতিদের এই চরম হুঁশিয়ারির পর পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ইয়েমেনে নিয়োজিত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই হুমকি মোকাবেলার কথা জানিয়ে লোহিত সাগরের অতিসংবেদনশীল বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী নিজেদের সকল জাহাজের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে রিয়াদ।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ধমনীখ্যাত বাব আল-মান্দেব প্রণালীটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিনের মোট তেল সরবরাহে প্রায় ৭ শতাংশ বড় ধস নামতে পারে; কেননা সৌদি আরবের প্রধান তেল রপ্তানি চ্যানেলটি এই সমুদ্রপথের ওপরই প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। যার ফলশ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীন হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহন ব্যয় বিপুল পরিমাণে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।