
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝে আবারও বিস্ফোরক পরিস্থিতি—দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ, যা নতুন করে উত্তেজনা উসকে দিয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দক্ষিণ লেবাননের তাল আল-নাহাস এলাকায় ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানবাহনের একটি জড়ো হওয়া লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। কফর কিলা গ্রামের উপকণ্ঠে অবস্থানরত সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলার বিষয়টি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে হিজবুল্লাহ।
এর আগে রোববার ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের সময় তাদের এক সেনা নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর এবং দু’জন মাঝারি পর্যায়ের আঘাত পেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এই হতাহতের সুনির্দিষ্ট সময় বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় এর প্রতিবাদেই তারা এই হামলাগুলো চালিয়েছে। রোববারও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণ চালানোর কথা জানায় সংগঠনটি।
বর্তমান সংঘাতের সূচনা ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ২ মার্চ হিজবুল্লাহ সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালালে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে।
এখনো দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে রয়েছে এবং সেখানে তারা অবস্থান জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে। লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই বিস্তৃত হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্তজুড়ে প্রায় প্রতিদিনই পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে—মাঠপর্যায়ে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই।
অন্যদিকে, ইসরায়েল তাদের সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্যে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকা ক্রমেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি