
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা-এর এক শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
নিহত ব্যক্তি শেখ ইউসুফ আফ্রিদি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে, ফলে পালানোর কোনো সুযোগ পাননি তিনি। আফ্রিদি সংগঠনটির প্রধান হাফিজ সাঈদ-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে লস্কর-ই-তৈয়বার কার্যক্রম পরিচালনায় আফ্রিদি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগসূত্র ছিলেন। তাই ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে গত মাসে লাহোরে একটি টেলিভিশন কেন্দ্রের সামনে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমির হামজা-এর ওপরও হামলা চালানো হয়। ৬৭ বছর বয়সী হামজা ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান বলে জানা গেছে।
এদিকে আরেক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহার-এর বড় ভাই মুহাম্মদ তাহির আনোয়ার-ও সম্প্রতি পাকিস্তানে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা যান। তিনিও সংগঠনের কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন লস্কর-ই-তৈয়বার শীর্ষ সদস্য আবু কাতাল, যিনি কাতাল সিন্ধি নামেও পরিচিত। গত বছরের মার্চে পাকিস্তানের জেলাম এলাকায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন তিনি। তাকে ২৬/১১ মুম্বাই হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হাফিজ সাঈদ-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি হামলার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে, যেখানে ৯ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হন।
একাধিক শীর্ষ ব্যক্তিকে ঘিরে ধারাবাহিক এসব হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।