
লেবাননে উত্তেজনা বাড়লেও বাস্তবে যুদ্ধের ময়দানে বড় কোনো পরিবর্তন নেই—ইসরায়েলের ভেতর থেকেই এমন প্রশ্ন উঠছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সাম্প্রতিক ঘোষণাকে ঘিরে।
ইসরায়েলি দৈনিক ‘ইসরায়েল হায়োম’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-র বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে নির্দেশ নেতানিয়াহু দিয়েছেন, তা মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল। সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘোষণা ছিল অনেকটাই ‘শক্তি প্রদর্শন’ বা জনমত শান্ত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া একটি বার্তা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এই নাটকীয় ঘোষণার পরও যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যত কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আগের মতোই নির্ধারিত রাজনৈতিক নির্দেশনা মেনেই দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে কোনো কৌশলগত নির্দেশনা বা অপারেশনাল পরিকল্পনা দেওয়া হয়নি। বরং আগের নির্দেশনার ধারাবাহিকতাতেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমান সামরিক তৎপরতা মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতির কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে একদিকে জনসমক্ষে হিজবুল্লাহকে কঠোর বার্তা দেওয়া হলেও, অন্যদিকে বাস্তবে আগের সমঝোতার পথেই এগোচ্ছে ইসরায়েলি প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও লেবানন সংঘাতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে দেশের ভেতরে যে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে, তা থেকে দৃষ্টি সরাতেই এমন কড়া বক্তব্য দিচ্ছেন নেতানিয়াহু।
গত ২৫ এপ্রিল ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস-এর সামনে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মুখোশ পরে বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদ কর্মসূচিও ইঙ্গিত দেয় যে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—দুই দিক থেকেই তার ওপর চাপ বাড়ছে।
কর্মকর্তাদের ধারণা, এই চাপের মুখে নিজেকে শক্ত অবস্থানে দেখাতে এবং সম্ভাব্য সামরিক ব্যর্থতার দায় এড়াতে সেনাবাহিনীকে সামনে ঠেলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, ‘ইসরায়েল হায়োম’-এর এই প্রতিবেদন ইসরায়েল সরকারের ভেতরের সমন্বয় সংকট ও আস্থার ঘাটতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে যুদ্ধ জোরদারের ঘোষণা, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে আগের পরিকল্পনাই বহাল—এই দ্বৈত অবস্থান ভবিষ্যৎ সংঘাতের দিকনির্দেশনা ও যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।