
ভারতের লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি বলেন, দেশের তরুণদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হলে ক্যামেরার কোণ পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। একই সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ'র কাছে জবাব চান এই কংগ্রেস নেত্রী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) লোকসভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রিয়াঙ্কা বলেন, নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে। তার প্রশ্ন, শিক্ষার্থীরা কি সন্ত্রাসী ছিল যে তাদের ওপর লাঠিচার্জ, পেলেট গান ও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে?
তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক উদ্বেগের সমাধান না করে সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জবাব দিয়েছে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে। তার ভাষায়, পুলিশের প্রতিটি লাঠির আঘাত শিক্ষার্থীদের চেয়ে সরকারের ভাবমূর্তিকেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে আহত এক পরীক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রিয়াঙ্কা বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম এমন একটি ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছে, যেখানে মেধার চেয়ে অনিয়ম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে ১৫২টি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি শিক্ষায় ব্যয়ের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পরিবারগুলোর ব্যক্তিগত ব্যয় অনেক বেশি।
এদিকে একই আলোচনায় কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালও নিট পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি লোকসভায় মহারাষ্ট্রের ১৯ বছর বয়সী নিট পরীক্ষার্থী অঙ্কিতা সাঙ্গালের রেখে যাওয়া একটি চিঠি পড়ে শোনান। কাট-অফ নম্বর থেকে মাত্র ১১ নম্বর কম পাওয়ায় গত ২৫ জুলাই আত্মহত্যা করেন অঙ্কিতা।
ভেনুগোপাল জানান, ২০১৪ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৬৮। বর্তমানে তা বেড়ে ১৪ হাজার ৪৮৮-এ পৌঁছেছে। তিনি বলেন, এটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের সংকেত।
প্রিয়াঙ্কার ‘প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার কোণ নয়, হৃদয়ের কোণ বদলানো দরকার’ মন্তব্যকে ঘিরে লোকসভায় কিছু সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকারি দলের সদস্যদের আপত্তির পর স্পিকার ওম বিড়লা বক্তব্যের কয়েকটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ভেনুগোপাল বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের শত্রু নন। তাদের ওপর হামলার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সূত্র: দ্য হিন্দু