
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপদ ব্যবস্থা নিয়ে ইরানের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাহরাইন। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে সোমবার ইরানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রণালিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে মাস্কাটে বৈঠকের আয়োজন করছে তেহরান। ইরানের ভাষ্য, আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে এই আলোচনার উদ্যোগ তাদের ‘সদিচ্ছার’ প্রকাশ।
শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘যা কিছু প্রচার করা হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বাহরাইন এতে অংশ নেবে না।’
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার আহ্বান বাহরাইনের
উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলার প্রসঙ্গ তুলে বাহরাইন বলেছে, ‘তোষণনীতির মাধ্যমে’ এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে কোনো ধরনের বৈষম্য, ফি কিংবা অনুমতির শর্ত ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাহরাইন।
তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে ওমানের সঙ্গে ইরান আলোচনা করছে। হরমুজ প্রণালির একটি অংশ ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যেও পড়েছে।
কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আগে বৈঠক নয়: বাহরাইন
বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আলোচনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করে কোনো যৌথ বৈঠকে অংশ নেবে না দেশটি।
আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ২০১৬ সালে সৌদি আরবের পাশাপাশি বাহরাইনও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। পরে ২০২৩ সালে সৌদি আরব তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে। তবে বাহরাইন এখনো ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেনি।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর আগে পর্যন্ত সব দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচল করতে পারত। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন।
‘সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ’ বলছে তেহরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার আল-জাজিরাকে বলেন, মাস্কাটে বৈঠকের প্রস্তাবটি ‘ইরানের সদিচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ’। তাঁর মতে, বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
বাঘাই বলেন, ‘এটি একটি ইঙ্গিত যে আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনা করব—যদিও ইরানকে আক্রমণ করার জন্য তাদের ভূখণ্ড, তাদের সামরিক ঘাঁটি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছিল।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে যে আলোচনা চলছে, তার ফলাফলও বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদলগুলোকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
আনুষ্ঠানিক চুক্তির সম্ভাবনা নেই
রয়টার্স ইরানের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকটি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা নেই।