
ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া নৈশভোজের খাবারের তালিকা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, বিদেশি অতিথিদের পুরোপুরি নিরামিষ খাবার পরিবেশন করে বিজেপি সরকার বিশ্বের ওপর নিজেদের নিরামিষভোজী সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
শনিবার রাতে আয়োজিত ওই নৈশভোজে বিদেশি অতিথিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের নিরামিষ পদ পরিবেশন করা হয়। খাবারের তালিকায় স্টার্টার হিসেবে ছিল ‘খুম্ব গালাওটি’ বা মাশরুম কাবাবের মতো বিশেষ পদ। ডেজার্টে রাখা হয়েছিল শাহদুত ফিরনি, জিলাপি ও ফ্রুট ক্রিমসহ একাধিক আয়োজন। মূল খাবারের সব পদই ছিল নিরামিষ।
মূল খাবারের তালিকায় আধুনিক স্বাদের ‘পনির লাবাবদার’, হিমালয়ের বিরল মাশরুম ও অ্যাসপ্যারাগাস দিয়ে তৈরি ‘গুচ্চি মার্মিক’, ‘ক্যারট বিন পোরিয়াল’, ‘তাক্কালি বেল্লে সারু’, মিলেট পোলাও, বিটরুট রাইতা এবং বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি ছিল।
নৈশভোজে আমিষ খাবার না থাকায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমালোচনা আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দলটির শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘‘তথ্যের খাতিরে জানিয়ে রাখি, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষই আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ পদ অত্যন্ত সুস্বাদু। ঠিক যেমন আমার বোনের তৈরি ছোলা ভাটুরেও বেশ দারুণ।’’
কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরাও একই প্ল্যাটফর্মে বিজেপির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘নিজেদের খাদ্যাভ্যাস সহকর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিজেপির স্বভাব এমনিতেই বড় সমস্যার বিষয়। এবার তারা এক ধাপ এগিয়ে সারা বিশ্বের বিশিষ্ট অতিথিদের ওপরও নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দিচ্ছে।’’
সমালোচনায় যোগ দেন ওয়ারিস পাঠানও। তিনি ভারতের বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা ভারতের বৈচিত্র্য নিয়ে মুখে অনেক বড় বড় কথা বলি। কিন্তু এই মেনুটি এক লহমায় সেই বৈচিত্র্যকেই মুছে দিয়েছে!
তিনি আরও লেখেন, আপনারা নিরামিষ খাবারের প্রচার করতেই পারেন, তাতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু ভারতের পুরো খাদ্যসংস্কৃতিকে শুধু নিরামিষ পদে বন্দি করবেন না। ভারতের কোটি কোটি মানুষ আমিষ খাবার খান; আমাদের রন্ধনশৈলীর বৈচিত্র্যে খাসির মাংস, মুরগি ও মাছ সমান গুরুত্ব বহন করে।
পাঠান বলেন, বিশ্বের শীর্ষনেতারা ভারতে এসেছিলেন। তাদের সামনে ভারতের আসল স্বাদের বৈচিত্র্য তুলে ধরা উচিত ছিল। যেমন মাটন মশলা ফ্রাই, হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি, তন্দুরি চিকেন, বাটার চিকেন ও গোয়ান ফিশ কারির মতো জনপ্রিয় পদগুলো। বিশ্বকে দেখানো দরকার ছিল যে, ভারতের বৈচিত্র্য কেবল ভাষা ও সংস্কৃতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, তা আমাদের আহারের থালিতেও রয়েছে।
এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলা ‘নারাজ ফুফা’ মন্তব্য টেনে রসিকতাও করেন পাঠান। তিনি বলেন, ‘‘...মাটন-চিকেন বাদ পড়েছে... পিসেমশাইরা এবার ঠিকই রুষ্ট হবেন!’’
তবে কংগ্রেসের সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির অভিযোগ, নীতিগত বিষয় কিংবা কূটনৈতিক সাফল্য নিয়ে আলোচনা না করে খাবারের মেনুকে ইস্যু বানিয়ে কংগ্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনকে খাটো করার চেষ্টা করছে।
বিজেপির দাবি, ব্রিকস সম্মেলনের মূল প্রস্তাব, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা কিংবা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরিতে ভারতের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পেরে বিরোধীরা এখন নৈশভোজের খাবারকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়েছে।
শাসকদলটির ভাষ্য, বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও অবস্থান নিয়ে কংগ্রেসের অস্বস্তি রয়েছে। এ কারণেই গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ না পেয়ে তারা নৈশভোজের মেনু নিয়ে রাজনীতি করছে।
এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজায় আমিষ খাবার গ্রহণ নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) কয়েকজন নেতার বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চলছে। এর মধ্যেই ব্রিকস সম্মেলনের নৈশভোজের নিরামিষ মেনু নিয়ে মোদি সরকার ও কংগ্রেসের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সেই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
শনিবার রাতের ওই নৈশভোজে স্টার্টার হিসেবে ‘খাণ্ডভি মিল’—বেসন ও নারকেলের রোল—এবং পুদিনার স্বাদযুক্ত মাশরুম কাবাব ‘খুম্ব গালাওটি’ পরিবেশন করা হয়। মূল খাবারে ছিল ‘পনির লাবাবদার’, হিমালয়ের বিরল মাশরুম ও অ্যাসপ্যারাগাসের ‘গুচ্চি মার্মিক’ এবং ‘ক্যারট বিন পোরিয়াল’।
এ ছাড়া ছিল ‘তাক্কালি বেল্লে সারু’ নামের বিশেষ ডালের স্যুপ, মিলেট পোলাও, বিটরুট রাইতা ও বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি। মিষ্টান্নের তালিকায় ছিল ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম উই