
আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই মঞ্চে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সামনে নিজেদের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যঐতিহ্য তুলে ধরেছে ভারত। ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনের উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেওয়া বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ প্রতিনিধিদের আপ্যায়নে রাখা হয় পুরোপুরি নিরামিষ একটি বিশেষ ভোজ। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ে সাজানো হয় এ দিনের মেন্যু।
ব্রিকস সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর সময়ই অতিথিদের জন্য এই বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের ঠিক আগে নিরামিষ ভোজের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়।
অতি গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের (ভিভিআইপি) সামনে ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্র্য, স্বাদ ও ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছিল প্রথম দিনের খাবারের তালিকা। ভারতীয় আঞ্চলিক রান্নার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার পাশাপাশি মেন্যুতে রাখা হয় আন্তর্জাতিক স্বাদের কিছু পদও।
মেন্যুতে ভারতীয় আঞ্চলিক খাবারের বৈচিত্র্য
দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বকারী খাবারের তালিকায় ছিল পনির লাবাবদার, রাজমা রসিলা, ডাল পঞ্চমেল, সবজ মোতিয়া পোলাও, মাকাই লহসুনি পালং এবং দম আলু বেনারসি।
ঘন গ্রেভি, সুস্বাদু ডাল, বিশেষ ধরনের চালের খাবার এবং নানা রকম সবজির সমন্বয়ে এসব পদ ভারতের নিরামিষ রান্নার বৈচিত্র্যময় চিত্র তুলে ধরে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এসব খাবারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রান্নার ঐতিহ্যও অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
আন্তর্জাতিক স্বাদের সঙ্গেও মেলবন্ধন
শুধু ভারতীয় খাবারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি প্রথম দিনের মেন্যু। আন্তর্জাতিক স্বাদের সঙ্গে ভারতীয় খাদ্যঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটাতে তালিকায় রাখা হয় পেনে আল পোমোদেরো এ পান্না, বেকড ভেজ ও গ্রাতাঁ এবং সিট্রাস পার্সলে ড্রেসিংয়ে তৈরি পার্ল মিলেট, হ্যারিকোট বিনস ও পোড়া ক্যাপসিকামের বিশেষ পদ।
মূল খাবারের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ও হালকা অনুষঙ্গ হিসেবে পরিবেশন করা হয় বিভিন্ন ধরনের পাঁপড় ও বৈচিত্র্যময় সালাদ। পুরো আয়োজনেই নিরামিষ খাবারের শর্ত বজায় রাখা হয়, যাতে বিদেশি প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে ভিন্ন স্বাদ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবারের অভিজ্ঞতা পান।
বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় নিরামিষ ঐতিহ্য
ব্রিকস সম্মেলনের বৃহত্তর খাদ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেও ভারতীয় খাবারের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য তুলে ধরাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম দিক।
পনির, ডাল ও পোলাওয়ের মতো পরিচিত খাবারের পাশাপাশি দম আলু বেনারসি, রাজমা রসিলা এবং মাকাই লহসুনি পালংয়ের মতো স্থানীয় পদও প্রথম দিনের খাদ্যতালিকায় রাখা হয়। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মঞ্চে ভারতের নিরামিষ রান্নার ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যকে বিশেষভাবে সামনে আনা হয়েছে।