.jpeg)
ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রমে দ্রুত সাড়া দিয়েছে ভারত। ‘অপারেশন অমিস্তাদ’ নামে মানবিক সহায়তা মিশনের আওতায় বর্তমানে দেশটির সেনাবাহিনীর ৪১ সদস্যের বিশেষায়িত মেডিকেল দল ভেনিজুয়েলায় কাজ করছে।
তারা ফিল্ড হাসপাতাল পরিচালনা, জরুরি চিকিৎসা, ট্রমা কেয়ার, এক্স-রে, ল্যাব পরীক্ষা, ছোট অস্ত্রোপচার ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। জরুরি সেবার অংশ হিসেবে ওই দলের সঙ্গে ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী ও ফিল্ড হাসপাতালও পাঠিয়েছে ভারত।
ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে ভারতের এই অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্যোগ-পরবর্তী জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তায় ভারতের এই উদ্যোগ দেশটির বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বলেও মনে করা হচ্ছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেয়া কোরাও ফারিয়া ভারতের স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ভূমিকম্পে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় ভারতীয় মেডিকেল দলের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘অপারেশন অমিস্তাদ’-এর আওতায় ভেনিজুয়েলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে দলটি দিনরাত কাজ করছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর দুটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহন বিমানে করে প্রায় ৬৬ টন সহায়তা ভেনিজুয়েলায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৩৫ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, সেনাবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতাল এবং দুটি দ্রুত স্থাপনযোগ্য বিশেষায়িত মোবাইল হাসপাতাল।
ডিডি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় দলটি ২৮ জুন ভেনিজুয়েলায় পৌঁছায়। এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত মেডিকেল দল কারাকাসের লা রিনকোনাদা এলাকায় ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করে। সেখানে জরুরি চিকিৎসা, ট্রমা কেয়ার, এক্স-রে, ল্যাব পরীক্ষা, দাঁতের চিকিৎসা, ছোট অস্ত্রোপচার এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
অপারেশন অমিস্তাদের পরিচালক মৈত্রেয় কুলকার্নি এই অভিযানকে ‘বন্ধুত্বের অভিযান’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ভারতীয় মেডিকেল দলের প্রাকৃতিক দুর্যোগে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারেও একই ধরনের ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ জুনের ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলার উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে লা গুয়াইরা, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৯৫৪ জনে পৌঁছেছে। গৃহহীন হয়েছে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ।
আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্রে ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর ও মেক্সিকো প্রাথমিক পর্যায়েই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে এগিয়ে আসে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৫০ লাখ ইউরো জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে। জাতিসংঘ, রেড ক্রস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে।