
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় ৯০ মিনিট টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনায় যুদ্ধের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তার প্রস্তাব দেন তিনি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ রোববার (৫ জুলাই) ভোরে এ তথ্য জানান।
উশাকভের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ফোনালাপে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজন হলে তারা আবারও মস্কো সফর করতেও প্রস্তুত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে ইউক্রেন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক তৎপরতা কিছুটা শ্লথ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও জানিয়েছেন, তার সঙ্গে ট্রাম্পের আলাদা একটি টেলিফোনে কথা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে দুই নেতার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উশাকভ বলেন, ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ বন্ধে নিজের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং সংকট নিরসনে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি ফোনালাপকে ‘বেশ গঠনমূলক’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, রাশিয়া নিজেদের মৌলিক অবস্থান বজায় রেখেই ইউক্রেন সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান চায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউক্রেন ও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা সংঘাত দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, রাশিয়ার বিভিন্ন তেলশিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলার কারণে কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
উশাকভের বক্তব্য অনুযায়ী, পুতিন ট্রাম্পকে জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে এবং নতুন নতুন এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা পুতিনকে জানিয়েছেন যে, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখল করেছে রুশ সেনারা।
তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশটির জেনারেল স্টাফের দাবি, শহরটির নিয়ন্ত্রণ এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতেই রয়েছে।
রাশিয়া আগেই জানিয়েছে, যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে পুরো দনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ মস্কোর হাতে দিতে হবে। তবে ইউক্রেন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত মাসে জেলেনস্কি পুতিনকে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানালেও ক্রেমলিন তা নাকচ করে দেয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ফোনালাপকে ‘খুবই ভালো’ বলে উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি। টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যুদ্ধফ্রন্টের পরিস্থিতি নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
জেলেনস্কি লিখেছেন, “এই যুদ্ধের অবসানের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। আর এতে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি জানান, আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনেও এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় নেতা একমত হয়েছেন।