
দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে ঢাকায় সমাপ্ত হলো বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দুই দিনব্যাপী বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের অষ্টম বৈঠক। গত ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ আজ ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং নেপালের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির বাণিজ্য সচিব ড. রাম প্রসাদ ঘিমিরে।
বৈঠকের শুরুতে দুই দেশের সচিব বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চমৎকার অবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা পিটিএ স্বাক্ষর, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধাগুলো দূর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। এছাড়া পণ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজ করা, বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ট্রানজিট সুবিধা কার্যকর করার মতো কৌশলগত বিষয়েও উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।
বাণিজ্যিক আলোচনার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, সরাসরি বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিনিধিদলদ্বয় কথা বলেন। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়।
দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষীত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) নিয়ে এবারের সভায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। ড্রাফট টেক্সট, রুলস অব অরিজিন এবং পণ্য তালিকা দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল শুরুতে স্বল্প কিছু পণ্যের মাধ্যমে পিটিএ কার্যকর করে পর্যায়ক্রমে তার পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে আগামী তিন মাসের মধ্যে ট্রেড নেগোসিয়েটিং কমিটির সভা আয়োজন করে চুক্তির সকল দাপ্তরিক নথিপত্র চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুই দেশই মনে করে যে পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা সহজ করা এবং সঠিক প্রচারণার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আকার বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। সভায় নির্ভরযোগ্য লেনদেন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পণ্য বাজারজাতকরণের বাধাগুলো সরিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়। পরিশেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদলই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন।