
দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে দুই দশক পর আবার রংপুরে পা রাখতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি তিনি রংপুর সফরে আসছেন, যা ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে তারেক রহমান রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি রংপুরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরকে ঘিরে দল সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মিলনায়তনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রংপুর বিভাগ আসাদুল হাবিব। সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী মো. সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম, রংপুর-১ আসনের প্রার্থী মোকাররম হোসেন, রংপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা এবং রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল হাবিব বলেন, “দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর রংপুরের মাটিতে তারেক রহমান আসছেন। এ আনন্দের সংবাদ যখন রংপুর বিভাগের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে যায়, ভোটার ও সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ আমরা লক্ষ করছি। আমরা মনে করি, এ জনসভা রংপুরের উন্নয়নের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির পক্ষে এই অঞ্চলে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আগামীকালের জনসভার মধ্য দিয়ে এ জাগরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। এ জনসভা যদিও এক দিনের প্রস্তুতিতে আমাদের করতে হচ্ছে, কিন্তু আমরা প্রস্তুত রয়েছি। রংপুরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ মাঠে এ জনসভাস্থল ছেড়ে গোটা রংপুর শহর জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হবে। সমাবেশে রংপুর বিভাগের ৩১টি নির্বাচনি আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন। তাদের সঙ্গে নেতাকর্মীরা আসবেন।”
বৃহত্তর রংপুরের উন্নয়ন ইস্যুতে তারেক রহমানের কাছে একাধিক দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান আসাদুল হাবিব। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিমানবন্দর চালু করা, ভারি শিল্প স্থাপন ও গ্যাস সংযোগ, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা, পর্যটন খাতের আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রযুক্তিকেন্দ্র স্থাপন, রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, সব জেলা সংযুক্ত করে এশিয়ান হাইওয়ে নির্মাণ, বন্ধ স্থলবন্দরগুলো পুনরায় চালু ও আধুনিকায়ন, জেলা ও উপজেলাভিত্তিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের নামে একটি বড় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা।
এদিকে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রংপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার অপরাধ তোফায়েল আহমেদ বলেন, “জনসভাকে কেন্দ্র করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ যথাযথ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। একজন ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।” সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় সাদাপোশাকে পুলিশসহ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।