
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় এক বিরল রাজনৈতিক দৃশ্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখলাক হায়দার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তার বাসায় মিষ্টি ও ফুল নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে যান উপজেলা বিএনপির এক নেতা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আখলাক হায়দার ও সোহেল আহমেদের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
জানা যায়, গতকাল কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তি পান বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখলাক হায়দার। মুক্তির পর তার বাসভবনে গিয়ে শুভেচ্ছা জানান উপজেলা বিএনপির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক সোহেল আহমেদ।
স্থানীয় মহলে গুঞ্জন রয়েছে, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল আহমেদ বিএনপিতে যোগ দিলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। বিএনপি থেকে সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি দলে যোগ দিয়েছেন—এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ সুমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার ভাই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সাথে কফি হাউজের সোহেল ভাইও আছে, উনি থানা বিএনপির নেতা হইলেও আখলাক ভাইয়ের কলিজার লোক। বিএনপির বড় ডোনার।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক সোহেল আহমেদ বলেন, “বাসায় যাওয়া কি অন্যায় নাকি। এবার আওয়ামী লীগ ছাড়া বিএনপি পাস করতে পারত না । আমার কাছে আওয়ামী লীগ বিএনপি সব সমান ।”
অন্যদিকে, বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন দৈনিক আমার দেশকে বলেন, “এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। উপজেলা বিএনপির সভাপতি এটিএম মিজানুর রহমানের সাথে কথা বলেন।”
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।